মা সর্বত্র: জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে | বেদবাণী ব্যাখ্যা | শ্রীশ্রীঠাকুর রামঠাকুর Bedbani ৮৯ Ramthakur
রাম ঠাকুরের কথা
ইতিমধ্যে প্রভাতবাবু আসিয়া পড়িলেন। তিনি পূর্ব্বেই জানিতেন যে ঠাকুর আসিবেন, ৯'টার ভিতরেই স্নানাহার সারিয়া চলিয়া আসিয়াছেন। কি একটা কারণে দুইদিন কলেজ বন্ধ ছিল, প্রভাতবাবু বলিলেন যে এই দুইদিন তিনি এখানেই থাকিবেন, বাড়ীতেও সেইরূপ ব্যবস্থা করিয়া আসিয়াছেন। জামা ছাড়িয়া ঠাকুরকে প্রণাম করিয়া প্রভাতবাবু স্থির হইয়া বসিলেন এবং কিছুক্ষণ ঠাকুরের সঙ্গে নানাবিধ কথাবার্তা চলিল। ইতিমধ্যে দিদি একখানা রেকাবিতে ঠাকুরের জন্য ৬।৭ টুকরা কাঁচকলা লইয়া আসিলেন। ঠাকুর একটি টুকরা তুলিয়া মুখে দিয়াই হাত দিয়া রেকাবিখানা সরাইয়া দিলেন। দিদির অনুরোধ সত্ত্বেও ঠাকুর কিছুতেই ঐ কাঁচকলা গ্রহণ করিলেন না। দিদি যে বিশেষ অপ্রস্তুত হইয়াছেন এরূপ মনে হইল না, যেন একটু রাগতভাবেই রেকাবিখানা লইয়া চলিয়া গেলেন এবং ঠাকুরও একখানি চাদর মুড়ি দিয়া শুইয়া পড়িলেন। ব্যাপারটা কিছুই বুঝিতে পারিলাম না। প্রভাতবাবুকে কথাটা খুলিয়া বলিলাম এবং তাহাকে লইয়া পাশের ঘরে যাইয়া অনুসন্ধান করিয়া দেখিলাম যে কুকার মোটে জ্বালানই হয় নাই, ঘি যেমন ছিল ঠিক তেমনই রহিয়াছে। আমি অবাক হইয়া গেলাম, মানুষ যে এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন হইতে পারে তাহা স্বপ্নেও কখন ভাবি নাই। বামুনের নিকট জিজ্ঞাসা করিয়া জানিলাম যে রান্নাঘরের উনানে একটি ছোট এলিউমিনিয়ামের কড়ায় কাঁচকলা সিদ্ধ করিয়া দিদি তাহাতে নুন এবং আরও কি মিশাইয়া ঠাকুরের নিকট লইয়া গিয়াছেন। উনানে তখনও আঁচ ছিল, প্রভাতবাবু তাড়াতাড়ি আর একটি কাঁচকলা কাটিয়া ঐ ভদ্রলোকের নির্দেশ মত ঘি'য়ে সাঁৎলাইয়া লইলেন এবং পরে নুন ও গোলমরিচ মাল্লাইয়া কুকারে চাপাইয়া দিলেন। কিঞ্চিদধিক আধঘণ্টা পরে সেই কাঁচকলা আনিয়া দেওয়া হইল, ঠাকুর সব কয়টি টুকরাই তৃপ্তির সহিত গ্রহণ করিলেন। আহারের পর ঠাকুর একটি গল্প বলিলেন। গল্পটি কিছুতেই স্মরণ করিতে পারিতেছি না, তবে উহার মর্মার্থ ছিল এই যে কোন অর্দ্ধপরিচিত ও অপরীক্ষিত লোকের উপর সেবার ভার ন্যস্ত করিতে নাই। ঠাকুর এ যাত্রায় দুইদিন আমার বাড়ীতে ছিলেন, দ্বিতীয় দিনও প্রভাতবাবুই ঠাকুরের আহার্য্য প্রস্তুত করিয়াছিলেন, দিদিকে কাছেও ঘেঁষিতে দেওয়া হয় নাই।
জয় শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর।
লেখক: ডক্টর শ্রী ইন্দুভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
