রাজপুতনার গোপাল লীলা
ভারতের সাধক – এক অলৌকিক ঘটনা
ঠাকুরের রাজপুতনা অবস্থান
রাজপুতনার এক গ্রামে সেইবার ঠাকুর প্রায় এক বৎসর অবস্থান করেন। সেখানে এক নিঃসন্তান রাজপুত দম্পতি তাঁহার পরম ভক্ত ছিলেন। ঠাকুরের প্রতি তাঁদের নিবিড় বাৎসল্য ভাব ছিল। গোপাল জ্ঞানে উভয়েই তাঁহার সেবাযত্ন করতেন।
ভক্তির নিবেদন
সম্পন্ন সেই গৃহে গো-মহিষের অভাব ছিল না। প্রতিদিন প্রচুর দধি, দুগ্ধ ও মাখন প্রস্তুত হতো। দুই বেলাই এই সব উপাদেয় খাদ্য থরে থরে সাজিয়ে ঠাকুরকে ভোজনে বসানো হতো।
ভক্ত দম্পতির আকাঙ্ক্ষা
স্বামী-স্ত্রীর একান্ত ইচ্ছা ছিল—তাঁদের ‘গোপাল’ যেন তাঁদের সম্মুখে বসে তৃপ্তি সহকারে ক্ষীর, ননী, দধির পাত্র উজাড় করে খান, আর সেই দৃশ্য দেখে তাঁদের নয়ন সার্থক হয়।
ঠাকুরের নিভৃত ভোজন
কিন্তু ঠাকুর তাতে রাজি ছিলেন না। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভোজনপর্ব তিনি নিভৃতেই সমাধা করবেন। আহার্য সাজানো হলেই ঘরের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হতো। প্রায় আধঘণ্টা পরে তিনি বাহিরে আসতেন।
তখন দেখা যেত, ভোজন পাত্রের সবই নিঃশেষ—শুধু ভক্ত দম্পতির জন্য সামান্য কিছু প্রসাদ অবশিষ্ট রয়েছে। অথচ ঠাকুরের মধ্যে অতিভোজনের কোনো লক্ষণই দেখা যেত না।
সন্দেহ ও কৌতূহল
এতে ভক্ত রাজপুত ও তাঁর স্ত্রী সন্দিহান হয়ে পড়েন। কৌতূহল দমন করতে না পেরে একদিন গোপনে গবাক্ষের ছিদ্র দিয়ে উঁকি দেন।
অলৌকিক দৃশ্য
তাঁদের চোখের সামনে উদঘাটিত হয় এক অভাবনীয় দৃশ্য! বন্ধ ঘরের ভিতরে কোথা থেকে এক বিশালকায় মহাপুরুষ আবির্ভূত হন এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই সমস্ত খাদ্য ভক্ষণ করেন। তারপর আকস্মিকভাবেই অন্তর্ধান করেন।
ঠাকুরের রুষ্টতা
ভক্ত দম্পতি ভয়ে ও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান। ঠাকুর বাহিরে আসার পর তাঁরা সেই রহস্যময় পুরুষের পরিচয় জানতে চান। কিন্তু ঠাকুর তাঁদের এই অবাধ্যতায় রুষ্ট হন এবং প্রশ্নটি এড়িয়ে যান।
গোপালের অন্তর্ধান
সেই রাত্রেই দেখা গেল, তাঁদের প্রিয় ‘গোপাল’ অদৃশ্য হয়ে গেছেন। এই বিচ্ছেদের আঘাতে ভক্ত দম্পতি ভেঙে পড়েন এবং অশ্রুতে ভাসতে থাকেন।
ঠাকুরের উপদেশ
ঠাকুর তাঁদের বুঝিয়ে দিলেন—শরণাগতির ধর্মে কোনো সন্দেহ, সংশয় বা অযথা কৌতূহলের স্থান নেই।
উপসংহার
এই ঘটনা আমাদের শেখায়, ভক্তির পথ সম্পূর্ণ বিশ্বাস ও সমর্পণের পথ। যেখানে প্রশ্ন বা সন্দেহ প্রবেশ করে, সেখানে ঈশ্বরীয় কৃপা সরে যেতে পারে।

