প্রবল বর্ষায় অলৌকিক অমৃতি প্রসাদ | শ্রীশ্রী রামঠাকুরের লীলা
মুজঃফরপুরে অমৃতির অলৌকিক আগমন
মুজঃফরপুরে খুব ভালো অমৃতি পাওয়া যাইত। বাড়ির নিকটেই একটি মিষ্টির দোকান ছিল। প্রায়ই সেখান হইতে গরম গরম অমৃতি আনা হইত। এক দিন বর্ষাকালের দ্বিপ্রহরে প্রবল বেগে বৃষ্টি পড়িতেছিল। এত জোরে বৃষ্টি হইতেছিল যে, ঘরের বাহিরে যাওয়া একেবারেই অসম্ভব। ছাতি লইয়া গেলেও রক্ষা নাই, ভিজিতেই হইবে।
বেলা প্রায় তিনটা বাজিয়া গেল। বৃষ্টি থামার কোন লক্ষণ নাই। আমরা সবাই ঠাকুরকে লইয়া নানা বিষয়ে কথা বলিতেছি। হঠাৎ আমি বলিলাম, “এখন যদি গরম গরম অমৃতি পাওয়া যাইত তবে কেমন মজা হইত!”
ঠাকুরের রহস্যময় প্রস্থান
একটু পরে ঠাকুর খড়ম পায়ে দিয়া নিচে নামিয়া গেলেন। ভাবিলাম, ঠাকুর প্রস্রাব করিতে যাইতেছেন। উপরে যে প্রস্রাবাগারটি ছিল, সে ঘরটিতে মাথা নিচু করিয়া যাইতে হয়। ঠাকুর মাথা নিচু করিয়া কখনও যাইতেন না। তাই সেই ঘরে প্রবেশ করার সময় তাঁহার কপালে ধাক্কা লাগিয়া ফুলিয়া যায়। এই কারণে উপরের ঘরটি তালা বন্ধ করিয়া রাখা হইয়াছিল।
নীচের প্রস্রাবাগারটি বড় ছিল, তাই তিনি সর্বদা নিচেই যাইতেন। ঠাকুরের খড়মের শব্দে কিন্তু বুঝিলাম, তিনি সদর দরজার নিকটে গেলেন এবং তৎক্ষণাৎ ফিরিয়া আসিলেন।
অলৌকিকভাবে গরম অমৃতি প্রাপ্তি
উপরে যখন উঠিলেন, দেখিলাম তাঁহার হাতে একটি চুপড়ি বোঝাই গরম অমৃতি রহিয়াছে। অমৃতি দেখিয়া মনে মনে খুব খুশি হইলাম।
আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, “এই অমৃতি কোথায় পাইলেন? আপনি বাহিরে যান নাই, আর বাহিরে যাওয়ার তো উপায় নাই।”
ঠাকুর বলিলেন, “একজন ভক্ত দিয়া গেল। কেন? সে ডাক দিল, আপনারা শোনেন নাই?”
আমি বলিলাম, “কোন ডাকই তো শুনি নাই।”
ঠাকুর তখন রহস্যময় হাস্যে বলিলেন, “কান থাকলে তো শুনবেন।”
ভক্তদের আনন্দ ও প্রসাদ গ্রহণ
তখনও প্রবল বেগে বৃষ্টি পড়িতেছিল। আমাদের আনন্দ আর দেখে কে! সবাই অত্যন্ত আনন্দের সহিত অমৃতি প্রসাদ গ্রহণ করিলাম।
আমরা ঠাকুরকে অমৃতি গ্রহণের জন্য বহু অনুরোধ করিলাম, কিন্তু তিনি স্বীকৃত হইলেন না।
ঠাকুরের স্নেহময় লীলা
এইভাবেই তিনি ভক্তদের নানা সময়ে রাবড়ি, বালুসাই প্রভৃতি মিষ্টান্ন খাওয়াইয়া আনন্দ দিতেন। ভক্তের সামান্য ইচ্ছাও যে তাঁহার কৃপায় পূর্ণ হইতে পারে, এই ঘটনাই তাহার এক অপূর্ব প্রমাণ।
শ্রীগুরু শ্রীশ্রী রামঠাকুরের অলৌকিক কৃপালীলা
— শ্রীগুরু শ্রীশ্রী রামঠাকুর
(শ্রী রোহিনী কুমার মজুমদার)
