অন্তর্যামী শ্রীশ্রী রামঠাকুর — জঙ্গলের অলৌকিক লীলা
নোয়াখালিতে অবস্থানকালে দয়াল শ্রীশ্রী রামঠাকুর প্রায়ই নিঃশব্দে একটি গভীর জঙ্গলের মধ্যে প্রবেশ করিতেন। এই রহস্যময় যাত্রা স্থানীয় লোকদের মনে কৌতূহল জাগাইয়া তুলিয়াছিল। কেন তিনি যান? কোথায় যান?—এই প্রশ্নে সবাই উদ্বিগ্ন হইয়া উঠিল।
একদিন রাত্রে, কয়েকজন সাহসী ব্যক্তি ঠাকুরের এই গোপন গমনপথ অনুসরণ করিবার সংকল্প করিলেন। তাঁহারা নিঃশব্দে ঠাকুরের পিছন পিছন চলিতে লাগিলেন।
জঙ্গলের মধ্যে একটি নদীর উপর ছিল একটি কাঠের সেতু। ঠাকুর নির্ভয়ে সেই সেতু পার হইয়া গভীর জঙ্গলে প্রবেশ করিলেন। কিন্তু তাঁহার পিছনে যাহারা গিয়াছিলেন, তাঁহারা সেতুর মাঝামাঝি পৌঁছাইতেই হঠাৎ চারিদিক হইতে ঢিল পড়িতে শুরু করিল!
ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে তাঁহারা আর সামনে অগ্রসর হইতে পারিলেন না, আবার পিছনেও ফিরিতে পারিলেন না। সেই মুহূর্তে তাঁহারা বুঝিলেন—এ কোনো সাধারণ ঘটনা নহে।
অগত্যা তাঁহারা ভগবানের শরণাপন্ন হইয়া প্রার্থনা করিতে লাগিলেন—
“আমরা আর ঠাকুরের গোপন পথে অনুসরণ করিব না, আমাদের ক্ষমা করুন!”
এই প্রার্থনার পর ধীরে ধীরে ঢিল পড়া বন্ধ হইয়া গেল। প্রাণে বাঁচিয়া তাঁহারা দ্রুত সেখান হইতে ফিরিয়া আসিলেন।
এই অলৌকিক ঘটনার কথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়িল। এবং কিছুদিন পর দয়াল ঠাকুর নোয়াখালি ত্যাগ করিয়া অন্যত্র গমন করিলেন।
এই কাহিনী আমাদের শিক্ষা দেয়—সাধুর লীলা সর্বদা গূঢ় ও অলৌকিক। শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসই তাহার প্রকৃত উপলব্ধির পথ।
