শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর ছিলেন আড়ম্বরহীন সাধারণ মানুষের মত। বাহ্যিক আবরণের কোন বালাই ছিল না রাম ঠাকুরের মধ্যে। প্রথম দর্শনলাভের সৌভাগ্যের দিন হইতে যত দিন সুস্থ দেহে ছিলেন একখানি ধূতি ও একটি চাদর তিনি পরিধান করেছেন। শীত-গ্রীষ্ম সব সময় তিনি একই পোশাক পরতেন। জীবনের শেষ ভাগে আশ্রিতরা শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরকে গরম জামা, কাপড় প্রভৃতিতে ভুষিত করত। ঐগুলি তিনি ইচ্ছামত দান করিতেন। পুঁথিগত বিদ্যা তার অবিদিত ছিল বলা চলে। তবু তিনি সর্ব্বশাস্ত্রবিশারদ ছিলেন। মহান আত্মার ভাবাবেশে তিনি কথা বলতেন। তার সন্মুখে উপস্থিত হলে সকলেরই মস্তক আপনিই অবনত হত। মহান সঙ্গীতের ন্যায় তাঁর কন্ঠস্বর। ভাবোচ্ছ্বাসগুলি স্বর্গের দৃশ্ব্যের ন্যায়। সে স্বর্গে সকল মানব প্রেমে সম্মিলিত। পাপী, অজ্ঞ, মুর্খ, সমাজের পরিত্যক্ত যত আবর্জনা সবাইকে তিনি কোলে টেনে নিতেন। যা তিনি স্পর্শ করেছেন, তাই পবিত্র হয়ছে। এমন কোন মলিনতা নাই যা সেই পুণ্যের আলোকে একটি কলঙ্ক রেখাপাত করতে পারে। সুগভীর জ্ঞান ও পবিত্রতা তাঁর নিকট নিশ্বাস-প্রশ্বাসের ন্যায় স্বাভাবিক। আপন-পর তাঁর নিকট অবিদিত ছিল। সবাই তাঁর নিকট সমান; সর্ব্বাধিক প্রিয় তাঁর কেই ছিল না, তাঁর নিকট যিনি থাকিতেন, মনে করিতেন তিনি ঠাকুরের অতি প্রিয় জন।
জয়রাম জয়গোবিন্দ 

ঠাকুর তুমি ভালো থেকো 
নামাময় করে তোলো তোমার মানুষ প্রাণী গুলোর মুখে 

