রাম ঠাকুরের কথা
এই নূতন পরিবেশের মধ্যে ঠাকুর আসিতেছেন, আমি কেমন একটা অস্বস্তি বোধ করিতেছিলাম এবং আমার আশঙ্কা যে অমূলক নয় ঠাকুর আসিতেই তাহা বুঝিতে পারিলাম। আমার দোতলার ঘরখানার সম্মুখের বারান্দায় পূর্ব্ব হইতেই এক বালতি জল আনাইয়া রাখিয়াছিলাম, ঠাকুর আসিতেই আমি তাঁহার পা ধোয়াইয়া দিলাম।
উকীলবাবু তখন তেতলার বারান্দায় ছিলেন, "দেখে যান, দেখে যান” বলিয়া তাহার অন্তরঙ্গ আমার সেই আত্মীয়টিকে ডাকিতে লাগিলেন; ঠাকুরের পা ধোয়াইয়া দেওয়াটা যেন একটা হাস্যকর ব্যাপার ঠাকুর আমার বাড়ীতে আসিবেন, এ কথাটা অনেকেই জানিতেন সুতরাং কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁহার কাছে বেশ একটু ভীড় জমিয়া গেল। কিন্তু আমার মন পড়িয়াছিল উকীলবাবুর দিকে। লক্ষ্য করিয়া দেখিলাম যে তিনি এক একবার আসিয়া দরজার নিকটে দাঁড়াইতেছেন এবং কিছুক্ষণ পরেই আবার উপরে চলিয়া যাইতেছেন। সহজেই বুঝিতে পারিলাম যে তিনি-কে কি ভাবে ঠাকুরকে প্রণাম করিতেছে, ঠাকুরের কথায় কাহার কিরূপ ভাবান্তর হইতেছে, ইত্যাদি বিষয়গুলি লক্ষ্য করিতেছেন এবং তেতলায় আমার সেই আত্মীয়টির নিকটে রিপোর্ট করিতেছেন। সেদিন ছুটি ছিল, উকীলবাবুর আদালত নাই, সুতরাং তিনি মহানন্দে উপর নীচ করিতে লাগিলেন।
বেলা ১২টা নাগাদ সকলেই চলিয়া গেলেন। প্রতাপবাবু তাড়াতাড়ি ঠাকুরের ভোগের ব্যবস্থা করিয়া ফেলিলেন। দু' চামচ ঘি, এক চামচ চিনি (চা'র চামচের) ও আঁধখানা চাঁপা কলা, ইহাই ছিল তখন ভোগের সামগ্রী। আমিও স্নানাহার সারিয়া আসিয়া ঘরের দরজা বন্ধ করিয়া দিলাম। উকীলবাবু কয়েকবার জানালা দিয়া উঁকি মারিয়া গেলেন, দু'তিন বার আমার নাম ধরিয়া ডাকিলেন, আমি শুনিয়াও শুনিলাম না।
জয় শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর।
লেখক: ডক্টর শ্রী ইন্দুভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
-----------------------------------
