রাজপুতানার গোপাল লীলা
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের অলৌকিক বাৎসল্যলীলা
— “রাম ঠাকুরের কথা”
ডক্টর ইন্দুভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
(এই ঘটনা ঠাকুর নিজেই লেখককে বলিয়াছিলেন)
লীলা রহস্য
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের এই অপূর্ব লীলা ভক্তি, বাৎসল্য ও ঈশ্বরীয় রহস্যে পরিপূর্ণ। রাজপুতানার সেই নিঃসন্তান দম্পতি ঠাকুরকে কেবল সাধু বা মহাপুরুষ বলিয়া ভাবেন নাই; তাঁহারা তাঁহাকে নিজেদের গোপালরূপে হৃদয়ে ধারণ করিয়াছিলেন।
ভক্তির এই বাৎসল্যভাব ভারতীয় ভক্তিধর্মের এক অনন্য রূপ। যেমন মা যশোদা শ্রীকৃষ্ণকে সন্তানরূপে সেবা করিতেন, তেমনি এই দম্পতিও ঠাকুরকে গোপালজ্ঞানে সেবা করিতেন।
কিন্তু এখানে রহস্য আরও গভীর। ঠাকুর নিজে কখনও খাদ্য গ্রহণ করিতেছেন বলিয়া মনে হইত না, অথচ প্রতিদিন সমস্ত ভোগ নিঃশেষ হইয়া যাইত। অবশেষে যখন তাঁহারা গোপনে দেখিলেন — এক বিরাটকায় দিব্যপুরুষ সেই ভোগ গ্রহণ করিতেছেন, তখন তাঁহাদের বোধগম্য হইল যে, এই লীলা সাধারণ মানবীয় নহে।
ঈশ্বর যখন ভক্তের প্রেমে আবদ্ধ হন, তখন তিনি নানা রূপে ভক্তের সেবা গ্রহণ করেন। কিন্তু কৌতূহল ও অলৌকিক রহস্য জানিবার আকাঙ্ক্ষা অনেক সময় সেই স্বাভাবিক ভক্তিভাবকে ব্যাহত করে।
সম্ভবত এই কারণেই, যখন সেই দিব্যপুরুষের পরিচয় জানিবার চেষ্টা হইল, তখনই ঠাকুর নিঃশব্দে সেই গৃহ ত্যাগ করিলেন। ঈশ্বরের লীলা বিশ্বাসের বিষয় — যুক্তি বা অনুসন্ধানের বিষয় নহে।
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের এই লীলা আমাদের শিক্ষা দেয় — সরল প্রেম ও নিষ্কাম ভক্তির মধ্যেই ঈশ্বরের প্রকৃত প্রকাশ ঘটে। যেখানে নিঃস্বার্থ সেবা আছে, সেখানেই ভগবানের আবির্ভাব।