মায়ের কাছে ঋণী
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের অলৌকিক কৃপালীলা
— রামভাই স্মরণে
ফণীন্দ্রকুমার মালাকার
লীলা রহস্য ও শিক্ষা
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের এই অপূর্ব লীলা আমাদের দেখায় যে, ভক্তের অন্তরের গোপন প্রার্থনাও গুরুদেবের নিকট অজ্ঞাত থাকে না। মানুষ বাহিরে যাহাই প্রকাশ করুক, হৃদয়ের গভীরতম ভাবও ঈশ্বরের নিকট সুস্পষ্ট।
ফণীবাবু একান্ত আন্তরিকতায় মা দুর্গার কাছে মানস করেছিলেন। সেই প্রার্থনা পূর্ণও হইল। কিন্তু সংসারের ব্যস্ততায় তিনি প্রতিজ্ঞার কথা ভুলিয়া গেলেন। তথাপি দয়াল ঠাকুর ভুলিলেন না।
ঠাকুরের উক্তি — “ফনী বাবু মায়ের কাছে ঋণী আছেন” — এই বাক্যের মধ্যে গুরুতত্ত্বের গভীর প্রকাশ আছে। গুরু কেবল বাহ্যিক শিক্ষক নন; তিনি অন্তর্যামী, ভক্তের হৃদয়ের সাক্ষী।
এই ঘটনায় আমরা বুঝিতে পারি, ভক্তের প্রতিটি প্রার্থনা, সংকল্প ও মানস গুরুদেবের চৈতন্যে ধরা থাকে। তিনি সময়মতো স্মরণ করাইয়া দেন এবং ভক্তকে সত্যপথে ফিরাইয়া আনেন।
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের লীলা আমাদের শিক্ষা দেয় — ঈশ্বরের নিকট করা প্রতিজ্ঞা কখনও ভুলিয়া যাইতে নাই। ভক্তির মূল ভিত্তি হইল সততা, বিশ্বাস ও কৃতজ্ঞতা।
দয়াল ঠাকুরের অসীম কৃপা ভক্তের জীবনকে আলোকিত করিয়া তোলে। তিনি নিঃশব্দে আমাদের সকল কথা শুনেন, জানেন এবং সময়মতো পথ দেখান।