চিত্রপটে নিত্য বিরাজমান
শ্রীউপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় — “তাঁহার স্মরণে”
বাণীর অন্তর্নিহিত শিক্ষা
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের এই অমৃতবাণী আমাদের ভক্তির প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করিতে শিক্ষা দেয়। আমরা সাধারণ মানুষ ভাবি — ভগবান বা গুরু কেবল শারীরিক উপস্থিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু ঠাকুর নিজেই বলিয়াছেন, তিনি তাঁর চিত্রপটের মধ্যেও নিত্য বিরাজমান।
এই ঘটনা কেবল একটি অলৌকিক অভিজ্ঞতা নহে; ইহা ভক্তির গভীর তত্ত্ব। ভক্ত যদি সরল বিশ্বাসে, প্রেমে ও আত্মসমর্পণে গুরুচরণে মন নিবেদন করেন, তবে চিত্রপটও জীবন্ত সান্নিধ্যের আধার হইয়া উঠে।
ঠাকুরের উক্তি — “সেখানে ত' আমি নিত্য বিরাজমান” — এই বাক্যের মধ্যে এক মহাসত্য নিহিত আছে। ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজমান। কিন্তু ভক্তির শক্তি বিশেষ স্থানে সেই উপস্থিতিকে অনুভব করায়।
আমরা অনেক সময় বাহ্যদর্শনে ব্যস্ত থাকি, অথচ অন্তরের বিশ্বাস দৃঢ় হয় না। শ্রীউপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় অকপটে স্বীকার করিয়াছেন যে, তাঁহাদের চিত্রপটের উপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস জন্মায় নাই বলিয়াই তাঁহারা শ্রীদেহ দর্শনের জন্য ব্যাকুল হইতেন।
এই স্বীকারোক্তি আমাদের নিজের মনকেও প্রশ্ন করে — আমরা কি সত্যই গুরুদেবকে সর্বদা উপস্থিত বলিয়া অনুভব করি? নাকি কেবল বাহ্যিক দর্শনের মধ্যেই তাঁহাকে সীমাবদ্ধ রাখি?
প্রকৃত ভক্তি তখনই জাগ্রত হয়, যখন অন্তরে স্থির বিশ্বাস জন্মে — গুরু কখনও দূরে নন। তিনি সদা ভক্তের অন্তরে ও চিত্রপটে বিরাজমান।