কামনা-বাসনা কেন জন্মায়? | বেদবাণী (৫৪) | আত্মতত্ত্ব ও মুক্তির পথ
একসময় ঢাকার এক দরিদ্র ফটোগ্রাফার ছিলেন—মনমোহন পাইন। ছোট্ট একটি দোকান, সামান্য আয়ে কোনোমতে সংসার চলত। কিন্তু তাঁর হৃদয়ে ছিল অগাধ ভক্তি শ্রীশ্রী রামঠাকুরের প্রতি। একটাই ইচ্ছা—ঠাকুরের একটি ছবি তোলা। কিন্তু লাজুক স্বভাবের কারণে তিনি সেই কথা বলতে পারতেন না।
অবশেষে একদিন সুযোগ এল। গেণ্ডারিয়ার এক ভক্তের বাড়িতে ঠাকুর এলেন। সাহস করে মনমোহন প্রার্থনা করলেন। ঠাকুর মৃদু হেসে বললেন, “কাল আসবেন।”
পরদিন ভোরে, সাধারণ ক্যামেরা নিয়ে তিনি হাজির। ছাদের ওপর সূর্যের আলোয় ঠাকুর বসে আছেন। প্রথম ছবি তুললেন—দেখলেন ঠাকুর যেন স্থূল দেহে। আবার প্রস্তুতি নিয়ে দ্বিতীয়বার তাকাতেই অবাক! ঠাকুর ধ্যানমগ্ন, উর্ধ্বনেত্র, এক অপার্থিব রূপ। সেই মুহূর্তটি তিনি ক্যামেরায় বন্দি করলেন।
কয়েকদিন পর ছবি দেখাতে গেলে ঠাকুর প্রথম ছবিটি দেখে বললেন, “এটা একটু মোটা।” আর দ্বিতীয়টি দেখে মৃদু স্বরে বললেন, “নির্বংশীয়া ছবি।”
কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়। আরেকবার তোলা একটি ছবিতে কিছু ত্রুটি ছিল—পিছনে অন্য মানুষের অংশও দেখা যাচ্ছিল। মনমোহন দুঃখ পেলেন। তবুও ঠাকুরকে দেখালে তিনি হেসে বললেন, “এই ফটোখানাই ঠিক… ইনিই কৈবল্যনাথ।”
এই বাক্য যেন সবকিছু বদলে দিল।
১৯৩০ সালে পাহাড়তলীর কৈবল্যধাম আশ্রমে সেই ধ্যানমগ্ন ছবিটিই প্রতিষ্ঠিত হল। আজও সেই পট পূজিত, ভক্তদের হৃদয়ে জাগায় শান্তি, ভক্তি আর অটল বিশ্বাস।
এই গল্প শুধু একটি ছবির নয়—এটি বিশ্বাস, ভক্তি আর গুরু-কৃপায় এক চিরন্তন আলোর ইতিহাস
